• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ড.খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কি খুলবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দুয়ার? বিদ্যালয় ঝরে পড়া রোধে খাগড়াছড়িতে শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু  মেঘ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খাগড়াছড়িতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ ফুটবল-কাবাডির উত্তাপ সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: নিন্দার ঝড়  নাফ নদী থেকে সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি  খাগড়াছড়িতে জিএসি প্রকল্প পরিদর্শনে ইউএনএফপিএর উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং মিশন শিশু শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে টেকনাফে ট্রলারডুবি ঘটনায় তিন মানবপাচারকারী আটক টেকনাফে শিশুশিক্ষার্থীকে ১৫বার বেত্রাঘাত করে শিক্ষক খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ৩ জনের কারাদণ্ড, যানবাহন জব্দ

টেকনাফে স্কুলছাত্রীর জমি দখলের চেষ্টা, ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ 

টেকনাফ (কক্সবাজার)প্রতিনিধি / ৯৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

স্কুলছাত্রীর জমি দখলের চেষ্টা, ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীর মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা ও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা জমি দখলে ব্যর্থ হলেও জমি ভোগদখলে রাখতে ভুক্তভোগীদের কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দরগারছড়া এলাকার মৃত সৈয়দ হোসনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাইফী (৪৮), উত্তর লম্বরীর মৃত মকতুল হোসনের ছেলে জাফর আহমদ (৫০), হাতিয়ার ঘোনার মৃত নুর আহমদের ছেলে ইউনুস (৪০) এবং একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৩০)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭–৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, স্কুলছাত্রী মহিমা শবনম মনির নামে নিবন্ধিত জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখলে থাকলেও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি যোগসাজশে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা সমাধান মানেননি। গত ৪ মার্চ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা জমিতে গিয়ে দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাইফী বলেন, উত্তর লম্বরীতে অবস্থিত একটি ইসলামিক গণপাঠাগারের জমি থেকে কিছু লোক গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি বাধা দিতে গেলে উল্টো হামলার শিকার হন। তিনি দাবি করেন, পাঠাগারটি প্রায় ৪৫ বছর ধরে সেখানে রয়েছে এবং ঘটনাটি ভিডিও করার সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার ঘোনা এলাকার জমির মালিক অলী আহমদ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তার স্ত্রী জাবেদা খাতুন ও বোনরা ওয়ারিশ হন। পরে গত বছরের ১৩ আগস্ট তারা জমিটি উত্তর লম্বরী এলাকার স্কুলছাত্রী মহিমা শবনম মনির কাছে বিক্রি করেন। তবে অলী আহমদের পালিত মেয়ে মোমেনা খাতুন নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করে ভুয়া দলিল দেখিয়ে বর্তমান মালিকদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামিক পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান জানান, ১৯৮৫ সালে হাজ্বী অলী আহমদ আব্দুল হককে সভাপতি ও তাকে সেক্রেটারি করে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পাঠাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর সংস্কার করা হয়নি। তবে জমিটি পাঠাগারের নামে লিখিতভাবে দান করা হয়নি। অলী আহমদের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা জমিটি বিক্রি করেছেন বলে তিনি অবগত আছেন।

জমি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে অলী আহমদের বোনের ছেলে নুর আহাম্মদ বলেন, জমিটির আরএস, বিএস ও বন্দোবস্ত তাদের দাদার নামেই ছিল। পরবর্তীতে ওয়ারিশরা মিলে জমিটি মহিমা শবনম মনির কাছে বিক্রি করেছেন এবং তিনি নিজেও সেখানে স্বাক্ষর করেছেন।

অন্যদিকে অলী আহমদের পালিত মেয়ে মোমেনা খাতুন নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করলে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান মালিকের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল আহমদ বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শবনমের পক্ষে সুপারিশ করা হয় এবং তার ভিত্তিতেই জমির ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাইফির নেতৃত্বে একটি দল জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।

জমির ক্রেতা অলি আহমদ জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা জমিটি তার বিধবা বোনের স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্রয় করেন। পরে সাইফি নামের এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), টেকনাফ মডেল থানা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
error: Content is protected !!
https://slotbet.online/
error: Content is protected !!