টেকনাফের কর্মরত সাংবাদিকদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
কক্সবাজারের টেকনাফে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক ইনকিলাব’-এর টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব এর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টেকনাফের স্থানীয় সাংবাদিকরা। টেকনাফের সাবরাং ইউপির হাছিনা বেগম বাদী হয়ে গত ১ মে টেকনাফ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এতে দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিবকে একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় বিবাদী করা হয়।
জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল ‘টেকনাফে ইয়াবা ডন খ্যাত করিমের নেতৃত্বে ইউপি সদস্য ও দুই ভাইয়ের উপর হামলা’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রতিবেদক ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে তথ্য ভিত্তিক ‘করিম ও সাহেদ কামাল বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। সেই সংবাদের জেরে আব্দুল করিমের ভাইয়ের স্ত্রী হাছিনা বেগমকে বাদী করে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক হাবিবকে উদ্দেশ্যেমূলক ভাবে জড়ানো হয়। যা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং হয়রানিমূলক মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সুধীজন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাবের ক্রাইম রিপোর্টার মেহেদী হাসান মুরাদ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্য প্রকাশকে কখনোই থামিয়ে রাখা যায় না। বরং এধরনের অপচেষ্টা প্রমাণ করে, একটি অসৎ চক্র নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই ভয় ও চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে, তারা কেবল সহযোগীই নয়—সমানভাবে অপরাধের অংশীদার। এদের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা, গণতন্ত্র এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি; তাই তারা দেশ ও জাতির শত্রু হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে যুগে যুগে অসৎ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। কখনো মামলা, কখনো ভয়ভীতি, আবার কখনো সরাসরি নির্যাতনের মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সত্যকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা যায় না। গণমাধ্যমের কলম সব সময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।
টেকনাফের প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি আলহাজ্ব মুহাম্মদ তাহের নঈম বলেন, একজন সংবাদকর্মীকে এ মামলায় জড়িয়ে তাদের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করছে।
আমরা এই মামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে এই মামলা থেকে উক্ত সংবাদকর্মীর নাম প্রত্যাহার করা না হলে টেকনাফে সকল কর্মরত সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসুচি দিতে বাধ্য থাকবে।
https://slotbet.online/