আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো রোহিঙ্গা সংকট। বছরের পর বছর ধরে লাখো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
যদি খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হন, তাহলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য।
তবে এই অর্জনের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ এই সুযোগকে জাতীয় স্বার্থে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বর্তমান বিএনপি/তারেক রহমান সরকারের সামনে এটি একটি বিরল ও বড় রাজনৈতিক সুযোগ। কারণ রোহিঙ্গা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান শুধু একটি পররাষ্ট্রনীতিগত অর্জনই হবে না, বরং এটি দেশের মানুষের কাছে সরকারের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সংকটের সমাধানের পথে যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রচলিত একটি কথা আছে— “সুযোগ কিন্তু বারবার আসে না।”
☞এখন প্রশ্ন একটাই— খলিলুর রহমান কি তাঁর এই ঐতিহাসিক দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানের পথে বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারবেন? যদি পারেন, তাহলে এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হবে না; বরং বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের গর্ব ও বিশ্ববরেণ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার জাতিসংঘের মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গাদের সামনে নিজ ভূখণ্ডে প্রত্যাবাসনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একবার নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করতে কতটা কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন হয়।
নিঃসন্দেহে এটি ছিল একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বার্তা, যার উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও রোহিঙ্গা সংকটের দিকে আকর্ষণ করা। কারণ সে সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেকটাই আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিল। কোথাও তেমন কোনো কার্যকর আলোচনা ছিল না। যদিও পরবর্তীতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়নি, তবুও এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বার্তার জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
রহমত উল্লাহ বিজয়
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।
https://slotbet.online/