• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ অপরাধীদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ

সামিরা আক্তার, টেকনাফ / ৪০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

#অপহরণকারীদের  ‘শেষ সুযোগ’, আত্মসমর্পণের আহ্বান#

#পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন দুই শীর্ষ অপরাধী#

#অপরাধ ছাড়লে আইনি সহায়তা, পুনর্বাসনের উদ্যোগ#

প্রচলিত কথা আছে-অন্ধকার জগতে একবার পা রাখলে সেখান থেকে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। তবে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে নতুন কৌশল নিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। টেকনাফের পাহাড় ও সাগরকেন্দ্রিক অপহরণ, মানবপাচার ও ডাকাতচক্রের সদস্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এরই মধ্যে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে টেকনাফের দুই শীর্ষ অপরাধী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের একজন পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণচক্রের সদস্য এবং অন্যজন সাগরপথে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান।

আত্মসমর্পণ করেছেন দুই শীর্ষ অপরাধী

পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের একজন নূর হোসেন প্রকাশ নূর হাছান (২৭)। তিনি টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলের চিহ্নিত ডাকাত ও শীর্ষ অপহরণকারী হিসেবে পরিচিত। গত ৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড পুলিশ ক্যাম্পে এসে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

নূর হোসেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ব্লক-সি, ঘর নম্বর ৯০৮/১-এর আব্দুল করিমের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুটি স্থায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

অন্যজন মো. হোছন ড্রাইভার (৪০)। তিনি টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ তাঁকে সাগরপথে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম শীর্ষ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এসে আত্মসমর্পণ করেন হোছন ড্রাইভার। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ সাতটি মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আত্মসমর্পণের পর তাঁকে বিধি অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপরাধ ছাড়লে আইনি সহায়তা, পুনর্বাসনের উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে এএসপি অহিদুর রহমান বলেন, “টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত অঞ্চলের পাহাড় কিংবা সাগরে কোনো ধরনের অপরাধী চক্রের উপস্থিতি বরদাশত করা হবে না। তবে যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধের পথ ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরতে চান, জেলা পুলিশ তাঁদের আইনি সহায়তাসহ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

তিনি আরও বলেন, “নূর হোসেন ও হোছন ড্রাইভারের আত্মসমর্পণ অন্য অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা। অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাঁদের সামনে সুযোগ রয়েছে।

কীভাবে আত্মসমর্পণ করবেন

পুলিশ জানিয়েছে, পাহাড় কিংবা সাগরে আত্মগোপনে থাকা অপরাধীরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চাইলে নিকটস্থ থানা, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র অথবা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে যোগাযোগ করতে পারবেন। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের অহেতুক হয়রানি না করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে এএসপি অহিদুর রহমান বলেন, “যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ভালো পথে ফিরতে চাইবেন, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারকে কোনো ধরনের অহেতুক হয়রানি করা হবে না। তবে যারা এখনো আত্মগোপনে থেকে পাহাড় বা সাগরে অপরাধী সিন্ডিকেট সচল রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহনশীলতার অভিযান আরও তীব্র হবে।

তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের প্রতি আমাদের আহ্বান—দ্রুত নিকটস্থ থানা বা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করুন। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে।

টেকনাফের পাহাড় ও সাগরকেন্দ্রিক অপরাধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার ও ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী,, ২০২৪ ও ২৬ এই পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় ৩০০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরও এ পর্যন্ত ৬০টি অপহরণের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অপরাধীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়াকে পুলিশের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী পরিবারে স্বস্তি

পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে অতীতে জিম্মি হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই এই অপরাধের স্থায়ী অবসান হোক। পুলিশের আত্মসমর্পণের আহ্বানে পাহাড়ের অন্য অপরাধীরাও যদি অস্ত্র ছেড়ে ভালো পথে ফিরে আসে, তাহলে অনেক পরিবার স্বস্তি পাবে। আর কোনো পরিবারকে যেন স্বজন হারানোর ভয়ে দিন কাটাতে না হয়।

পুলিশের ভাষ্য, যারা আত্মসমর্পণ করে অপরাধের পথ থেকে সরে আসবেন, তাঁদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। আর যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধ চালিয়ে যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
error: Content is protected !!
https://slotbet.online/
error: Content is protected !!