স্মৃতির পাতায় আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান স্যার
আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সোবহানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
স্বীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে তাঁদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন যিনি-তিনিই তো প্রকৃত শিক্ষক। আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান স্যার ছিলেন তেমনই একজন আলোকিত শিক্ষক, একজন আদর্শ অভিভাবক এবং মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
গত ১২ আগস্ট ছিল তাঁর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে তাঁর অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষককে স্মরণ করেছেন। কারও কাছে তিনি ছিলেন মানবিকতার প্রতীক, কারও কাছে কঠোর অথচ স্নেহশীল অভিভাবক, আবার কারও কাছে একজন সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষক।
ব্যক্তিগতভাবে স্যারকে আমি খুব ভয় পেতাম। তাঁর শাসন ছিল কঠোর, কিন্তু সেই কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল অফুরন্ত স্নেহ, মমতা ও মানবিকতা। একদিন টিফিনের সময় আমার কাছে খাবার কেনার টাকা ছিল না। ভয়ে ভয়ে স্যারের কাছে ছুটি চাইতে গেলে তিনি ছুটি না দিয়ে নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে বলেছিলেন “যাও, আগে কিছু খেয়ে আসো।”
সেদিনের সেই ছোট্ট ঘটনাটি আমার কাছে আজও বিশাল এক শিক্ষা। তখনই বুঝেছিলাম-একজন প্রকৃত শিক্ষক শুধু শাসন করেন না, তিনি সন্তানের মতো আগলে রাখেন।
স্যারের সময়ে কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হয়নি। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সহযোগিতা করেছেন, অনেকের বেতন মওকুফ করেছেন, বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কাছে শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা ছিল না; এটি ছিল মানুষের জীবন গড়ার এক মহান দায়িত্ব।
তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ছিল ঈর্ষণীয়। তাঁর সময়ে বিদ্যালয়ের ফলাফল জেলার গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিল। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে বিদ্যালয়টি ছিল গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান।
আজ সময় বদলেছে। স্যার নেই। তাঁর সেই কঠোর শাসন, স্নেহমাখা অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বও নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের সেই গৌরব, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। কখনো কখনো মনে হয়, আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয় যেন আজও নীরবে তার প্রিয় অভিভাবককে খুঁজে বেড়ায়।
তবে মানুষ চলে গেলেও তাঁর আদর্শ কখনো হারিয়ে যায় না। আব্দুস সোবহান স্যার আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। তাঁর শাসনের স্মৃতি, ভালোবাসার স্পর্শ এবং শিক্ষার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই হোক তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান স্যারকে ক্ষমা করুন, তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়
স্যারের অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
https://slotbet.online/