সামিরা আক্তার, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় গহীন পাহাড়ে দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর লোকালয়ে ঢুকে কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টাকালে এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ রাশেল। তিনি রোহিঙ্গা বলে
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, রাশেল দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ব্যক্তিদের নির্যাতনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে বাহারছড়ার গহীন পাহাড়ে দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী প্রাণ বাঁচাতে পাহাড় থেকে লোকালয়ের দিকে পালিয়ে আসে। পাহাড়ের পাদদেশে কৃষকেরা তখন মাঠে কাজ করছিলেন। পালিয়ে আসা অস্ত্রধারীরা কৃষকদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে তারা ধাওয়া দেন।
একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রাশেলকে ধরে ফেলেন কৃষকেরা। পরে তাকে স্থানীয় জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ পথচারীরা তাকে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং রাশেলকে হেফাজতে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, রাশেলকে এর আগে অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী চিনতে পেরেছেন। তাদের ভাষ্য, অপহৃত ব্যক্তিদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়ার কাজে রাশেলের ভূমিকা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘বাহারছড়া থেকে এ পর্যন্ত যতজন অপহৃত হয়েছে, আজ আটক হওয়া যুবক তাদের মুক্তিপণের জন্য মারধর করত বলে আমরা জানি। অনেক মানুষ তার হাতে জিম্মি ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অপহরণ চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনতা একজনকে আটক করেছে। তবে প্রচুর মারধরের কারণে সে এখন পর্যন্ত কথা বলতে পারছে না। যতটুকু জানতে পেরেছি, সে অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসা শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
https://slotbet.online/