ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক আয়োজন-অর্গানিক মেহেদি উৎসব। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় দুটি উদ্যোগ তারিন’স হেন্না লাউঞ্জ ও মেহেদী বাই হাবিবা যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে। প্রথমবারের মতো এমন উৎসব হওয়ায় শুরু থেকেই এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (সকাল ১১টা) টেকনাফের ঝর্না চত্বরের বৈশাখী রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী নারীদের ভিড়ে মুখর পুরো আয়োজনস্থল। ঈদের আগাম আমেজ ছড়িয়ে দিতে এই উৎসব চলবে চাঁদ রাত ১২টা পর্যন্ত।
ঈদকে ঘিরে সাজগোজে নতুন মাত্রা যোগ করতে নারীরা অর্গানিক মেহেদিতে হাত রাঙাতে ভিড় করছেন। দক্ষ শিল্পীদের হাতে ফুটে উঠছে নান্দনিক সব নকশা-লতাপাতা, ফুল, আলপনা থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইনের বৈচিত্র্য। কারও হাতে গাঢ় রঙের শৈল্পিক ছাপ, আবার কারও হাতে হালকা আভায় মুগ্ধতা—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রঙিন এক আবহ।
উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণীরা জানান, এমন আয়োজন তাদের কাছে দারুণ উপভোগ্য। এতে ঈদের আনন্দ আগেভাগেই অনুভব করা যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আগে গ্রামে মেহেদি পাতা বেটে হাতে লাগানোর যে ঐতিহ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এই অর্গানিক মেহেদি সেই পুরোনো সংস্কৃতিরই আধুনিক উপস্থাপন।
ঈদের আনন্দকে এক ধাপ বাড়িয়ে দিতে অর্গানিক মেহেদীতে রাঙিয়ে নিতে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী নারী। নানা রঙের মেহেদির নকশা এক অপূর্ব পরিবেশ গড়ে ওঠে। তরুণীরা মনোযোগ দিয়ে নকশা এঁকেছে লতাপাতা আর ফুলের প্রতিচ্ছবি।
মেহেদী দিতে আসা নারী রাবিয়া বসরি বলেন, এসব মেহেদী কোন ধরনের কেমিক্যাল ছাড়াই বাসায় তৈরি করা হয় তাই এখানে এসেছি।অর্গানিক মেহেদী ব্যবহার করায় হাতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। দাম রাখা হয়েছে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে রয়েছে মেহেদি ওয়ার্কশপ, সরাসরি হাতে মেহেদি লাগানোর সুযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের অর্গানিক মেহেদি কেনার ব্যবস্থা। আয়োজকদের মতে, বিনোদনের পাশাপাশি স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের কাজ তুলে ধরা এবং নতুনদের উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তারিন’স হেন্না লাউঞ্জের স্বত্বাধিকারী তারিন রেহনুমা প্রমি জানান, উৎসবে ব্রাইডাল, সেমি-ব্রাইডাল, নন-ব্রাইডাল ও ফ্লোরালসহ নানা ধরনের কাস্টম ডিজাইন করা হচ্ছে। প্রত্যাশার তুলনায় সাড়া বেশি পাওয়ায় তারা বেশ উচ্ছ্বসিত।
এ আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কেমিক্যালমুক্ত অর্গানিক মেহেদির ওপর। অভিজ্ঞ শিল্পীরা নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করে কাজ করছেন, যা ত্বকের জন্যও উপকারী।
নারী উদ্যোক্তা উম্মে হাবিব জানান, তিনি নিজ হাতে উন্নতমানের আমদানিকৃত মেহেদি পাউডার, এসেনশিয়াল অয়েল, লেবু ও চিনি দিয়ে এই মেহেদি তৈরি করেন। কোনো রাসায়নিক উপাদান না থাকায় এটি সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজে রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে টেকনাফে প্রথম অর্গানিক মেহেদির প্রচলন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক তরুণী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন, যা এই উদ্যোগের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে
https://slotbet.online/