দেশজুড়ে আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে মিশেছে গভীর বেদনা। নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ এবারও ঈদ কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তা ও কষ্টের বাস্তবতায়।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টার পর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শিশুদের মাঝে কিছুটা আনন্দের আভাস থাকলেও বড়দের মুখে ছিল হারানোর বেদনা। রাখাইনে নির্যাতনের স্মৃতি, স্বজনহারা জীবন এবং শরণার্থী হিসেবে টিকে থাকার সংগ্রাম ঈদের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
জামাত শেষে অনেক ইমাম ও মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। মোনাজাতে তারা নির্যাতনের বিচার কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, “ঈদ এলেও আগের মতো আনন্দ নেই। নিজের দেশে ঈদ পালন আর এখানে ঈদ করা এক নয়। আগে আমরা পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করতাম, এখন সেই সুযোগ নেই—এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সদস্যরা সর্বক্ষণ কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
All rights reserved © 2026 KhaborerThikana.Com
Developed by : Azad Web IT